বৌদ্ধবিহার বর্তমান নওগাঁ জেলার বদলগাছি থানায় পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত।
"আমি তো এসেছি 'কমলার দীঘি', 'মহুয়ার পালা' থেকে।"- এ কথা দ্বারা কবি বাংলার সাংস্কৃতিক বিবর্তন ধারাকে বুঝিয়েছেন।
'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি গভীর মমত্বের সঙ্গে কবিতার আঙ্গিকে চিত্রিত করেছেন আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পটভূমি। 'কমলার দীঘি', 'মহুয়ার পালা' মৈমনসিংহ গীতিকার দুটি পালা এই পালাগুলোতে গ্রামীণ নর-নারীর সহজ-সরল প্রেমকাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। এতে নারীর মূল্য, মর্যাদা, ব্যক্তিত্ব, স্বাতন্ত্র্য প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য প্রকাশমান। এক অপূর্ব সুন্দরী বেদেকন্যা মহুয়ার সঙ্গে বামনকান্দার জমিদার ব্রাহ্মণ যুবক নদের চাঁদের দুর্জয় প্রণয়কাহিনি অবলম্বনে 'মহুয়ার পালা' রচিত।
উদ্দীপকটি 'আমার পরিচয়' কবিতায় প্রতিফলিত বিপ্লব-বিদ্রোহের মতাদর্শের দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ।
মূলত ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশির প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার শেষ সূর্য অস্তমিত হয়। এরপর ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিপ্লব, ১৯৩০ সালে ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র যুদ্ধ, ১৯৫২ সালের ভাষা-আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। এভাবে ইতিহাসের বহু অধ্যায় পার হয়ে, নানা সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে এদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বিশ্বের বুকে একটি মর্যাদাবান জাতি-রাষ্ট্র গঠনে এদেশের মানুষকে স্বদেশপ্রেমে জাগ্রত করতে মহাত্মা গান্ধীর কৃতিত্ব সম্পর্কে ইঙ্গিত করা হয়েছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একান্ত আপন করে নিয়ে, পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির জন্য সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন তিনি। তাঁর এ আহ্বান আলোচ্য 'আমার পরিচয়' কবিতার বিপ্লব-বিদ্রোহের মতাদর্শের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিতায় কবি সৈয়দ শামসুল হক এদেশের অস্তমিত স্বাধীনতার সূর্যকে আবার উদয়ের পথে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের কথা বলেছেন। তিনি কবিতায় বৌদ্ধ কবিদের সৃষ্ট চর্যাপদের মধ্যে বাঙালি জাতিসত্তার অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধের পরিচয়, যুগে যুগে নানা আন্দোলন, বিপ্লব-বিদ্রোহ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের বিকাশধারায় আজকের বাংলায় পৌঁছানোর কথা বলেছেন। সেই ধারায় মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনটি একটি শ্রেষ্ঠ পদক্ষেপ। এভাবে আলোচ্য বিষয়টি কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকটি 'আমার পরিচয়' কবিতার খণ্ডাংশ মাত্র, পূর্ণচিত্র নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাঙালি জাতিসত্তার অতীত ঐতিহ্য আছে। তা এক দিনে বা একক কোনো ঘটনার মধ্য দিয়ে আসেনি। ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি প্রভৃতির ধারাপ্রবাহে তার আগমন। এই ধারাপ্রবাহ ধরেই আমাদের সামগ্রিক সত্তা। এ কারণেই ঐতিহ্য সংলগ্ন এক স্বাধীন জাতি বলে নিজেদের পরিচয় দিতে আমরা গর্ববোধ করি।
উদ্দীপকে ব্রিটিশ শাসনের অবসানকল্পে এদেশের সাধারণ মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ স্বদেশী আন্দোলন গড়ে তুলতে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এদেশের পতিত, চণ্ডাল, ছোটলোকদের ভাই বলে বুকে টেনে নিয়ে তাদেরকে শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছিলেন মহাত্মা গান্ধী। জনতাও তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল। জনতার সেই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশ শাসকরা টিকতে পারেনি। গান্ধীজির অহিংস আন্দোলনের সঙ্গে বিপ্লবের ধারাবাহিক চেতনাটি সাদৃশ্যপূর্ণ। যেখানে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব, মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি আছে। এই বিষয়টি ছাড়াও কবিতায় চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্য যাত্রা, কৈবর্ত বিদ্রোহ, পালযুগের চিত্রকলার বিকাশ সাধন, বৌদ্ধবিহারের জ্ঞানচর্চা, মুসলিম ধর্ম ও সাহিত্য সংস্কৃতির বিকাশ, বারো ভূঁইয়াদের উত্থান, মৈমনসিংহ গীতিকায় প্রতিফলিত মানুষের জীবন, তিতুমীর-হাজী শরীয়তউল্লাহর বিদ্রোহ, রবীন্দ্র-নজরুলের কালজয়ী সৃষ্টি ইত্যাদি বিষয় বর্ণিত হয়েছে।
'আমার পরিচয়' কবিতায় আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন বাংলার স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র ও জাতিসত্তা প্রতিষ্ঠার পশ্চাতের এক ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে, যা আলোচ্য উদ্দীপকে নেই। এমনকি ইঙ্গিতেও প্রকাশ পায়নি। 'আমার পরিচয়' কবিতার মধ্যে কবি এই বিপুল বাংলাদেশের অনবদ্য রূপটি তুলে ধরেছেন। তাই উদ্দীপকটি 'আমার পরিচয়' কবিতার খন্ডাংশ মাত্র, পূর্ণচিত্র নয়।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!